April 20, 2026, 3:13 am

সিদ্ধিরগঞ্জের সাহেবপাড়ায় রাস্তা দখল করে বাজার, লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: সিদ্ধিরগঞ্জের সাহেবপাড়া এলাকায় রাস্তায় বাজার বসিয়ে চলছে চাঁদাবাজি বাণিজ্য। ডিএনডি ক্যানেল পাড়সহ রাস্তা দখল করে অবৈধভাবে বাজার গড়ে তুলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসলাম ওরফে বরিশাইল্যা আসলাম বাহিনীর বিরুদ্ধে। বাজার থেকে টাকা আদায়কারী মামুনকে আটক ও বাজারটি ভেঙে দিয়েছিলেন ডিএনডি প্রকল্পে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তার পরও রহস্যজনক কারণে আবার বাজার বসিয়ে চালাচ্ছে চাঁদাবাজি।

জানা যায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নং ওয়ার্ডের সাহেবপাড়া এলাকায় ডিএনডি ক্যানেলপাড় ও জনচলাচলের রাস্তা দখল করে কাঁচা বাজার গড়ে তুলেছে আসলাম। বাজারে রয়েছে শতাধিক দোকানপাট। প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ২ থেকে আড়াইশত টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান মতে বাজারটি থেকে দৈনিক চাঁদা আদায় হচ্ছে কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকা।যা মাসে দাঁড়ায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা।

এছাড়াও বাজারে অবৈধভাবে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। প্রতি দোকান থেকে দৈনিক ৩০ টাকা করে বিদ্যুৎ বিল আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাহেবপাড়া এলাকার আসলাম ও বাছেদ বাজারের মূল হর্তাকর্তা। চাঁদা আদায় করার জন্য মামুন নামে একজনকে বেতনভূক্ত কর্মচারী রাখা হয়েছে। বাজারটির কারণে ডিএনডি প্রকল্পের উন্নয়ন কাজে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে বাজার থেকে চাঁদা আদায়কারী মামুনকে কিছুদিন আগে ডিএনডি প্রকল্পে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর সদস্যরা আটক করে ছিলেন।

পাশাপাশি বাজারটি ভেঙে দিয়েছিলেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু সেনাবাহিনী ম্যানেজ করার কথা বলে প্রতি দোকানদারদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে অগ্রিম নিয়ে আবার বাজার বসানো হয়েছে। এতে সেনাবাহিনীর মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাই অবৈধ বাজার বসিয়ে চাঁদাবাজ চক্রের হোতা আসলাম ও বাছেদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আসলাম বলেন, সেনাবাহিনী ভেঙে দেওয়ার পর থেকে বাজারের নিয়ন্ত্রন ছেড়ে দিয়েছি।এখন ওমর আলী ও কোমর আলী তারা দুই ভাই বাজারের দেখাশোনা করছে। ওমর আলীর ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলেও তার  সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তার ভাই কোমর আলী বলেন, আমি বাজারের বিষয়ে কিছুই জানিনা। কেউ বলে থাকলে তা সঠিক নয়।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা